চিত্রাংকন প্রতিবেদন – ২০২৩ খ্রি.
ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতন
পানি উন্নয়ন বোর্ড কলোনী , ঠাকুরগাঁও।
চিত্রাঙ্কন প্রশিক্ষণ কর্মশালা -২০২৩ খ্রি.
১ম পর্ব, ১ম ও ২য় দিন

স্থান : ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতন
পানি উন্নয়ন বোর্ড কলোনী, ঠাকুরগাঁও।
তারিখ : ২২, ২৩, ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ খ্রি.
প্রণয়নে : রুমানা আক্তার ও ইয়াসমিন আক্তার সুবর্ণা, সহকারী শিক্ষক।
যৌথ আয়োজনে : ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতন ও রয়েল কিণ্ডারগার্টেন
৪ দিন ব্যাপী চিত্রাঙ্কন প্রশিক্ষণ কর্মশালা – ২০২৩ খ্রি.
প্রশিক্ষক : জনাব মোঃ মোর্তুজা আলী চৌধুরী
চারুকলা ইন্সটিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ঠাকুরগাঁও)।
বাস্তবায়নে : শিক্ষকবৃন্দ (ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতন ও রয়েল কিণ্ডারগার্টেন)।
তত্ত্বাবধায়ক : জনাব নুরুল হুদা স্বপন ও জনাব মোঃ আবুল হাশেম
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীগণের সংখ্যা :
ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতন ১৫ জন
রয়েল কিণ্ডারগার্টেন ৪১ জন
মোট ৫৬ জন

প্রথমে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রয়েল কিণ্ডারগার্টেন ও ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতন এর অঙ্কন শিক্ষক শাহিন স্যার। প্রতিবারের মত এবারও চিত্রাঙ্কন কর্মশালার আয়োজন করা হয়। শ্রদ্ধেয় মোর্তুজা স্যার আমাদের মাঝে আসেন ৩:২৫ মিনিটে এবং ক্লাস শুরু করেন ৩: ৩০ মিনিটে। জনাব মোর্তুজা স্যার বলেন, সকলকে সুস্থ্য থাকার চেষ্টা করতে হবে। স্যার প্রথমে পেনসিলের কথা বলেন। তিনি বলেন, ২ই, ৪ই ও ৮ই হল অঙ্কন করার ভালো পেনসিল। অঙ্কন করার জন্য আরো প্রয়োজন হয় রং তুলি, ও কাগজের।তিনি আরও বলেন আমাদের জাতীয় ফল ও পাখির নাম। জনাব মোর্তুজা স্যার আরও বলেন আমাদের জাতীয় পতাকার রং কী। সবুজ ও লাল বাংলাদেশের সরকার পতাকার মাপটি উল্লেখ করতে হবে। তিনি বলেন জাতীয় ফুল শাপলা দিয়ে আমরা অংকন শুরু করব। আর পতাকার মাপ ও বোর্ডে দেখানো হবে।

জনাব মোর্তুজা স্যার প্রথমে বোর্ডে একটি বৃত্ত আঁকেন। তিনি বলেন, বৃত্তকে ইংরেজিতে সার্কেল বলে। ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতনের সুন্দর মনোরম পরিবেশে সকল ছাত্র- ছাত্রীবৃন্দ মনোযোগ সহকারে ক্লাসে বৃত্ত এবং ত্রিভুজ আঁকা শিখেছে। স্যার আরও শিখান, ত্রিভুজ দিয়ে কীভাবে ঘর আঁকা যায়।
বোর্ডে সুন্দরভাবে দেখানো হয় বৃত্ত দিয়ে শাপলা আঁকা। ছাত্র- ছাত্রীদের বলা হয় বৃত্তের মাপ কি? যা দিয়ে শাপলা আঁকা হয়। শূন্য থেকে ৭ পর্যন্ত নিতে বলা হয়।

স্যার প্রথমে শাপলার ৫টি পাঁপড়ি আঁকেন। তারপর অসংখ্য পাঁপড়ি একে ছাত্র-ছাত্রীদের বুঝিয়ে দেন। জনাব মোর্তুজা স্যার শাপলা পানিতে ভাসলে কেমন দেখায় তাও বুঝিয়ে দেন। শাপলার কলিতে সাদা সাদা দাগ থাকে তাও বোর্ডে এঁকে বুঝিয়ে দেন। স্যার বলেন, শাপলা ফুলের কতগুলো পাতা থাকে। আর সেই পাতা গুলো পানিতে ভেসে থাকে। শাপলা ফুলের পাতা গুলো কাটা কাটা থাকে। স্যার বোর্ডে এঁকে দেন ফুটন্ত পলা ও একটি কলি।
স্যার ছাত্র- ছাত্রীদের কাছে গিয়ে বৃত্তের মাপ যাতে ৮ সেন্টিমিটার নিয়ে শাপলা আঁকা হয় তা বলেন। স্যার ছাত্র- ছাত্রীদের কাছে গিয়ে শাপলা আঁকতে সাহায্য করেন। তিনি বলেন শাপলা সাধারণত সাদা হয়। তবে কিছু কিছু গোলাপিও হয়। তিনি বলেন ঠাকুরগাঁও এর মেয়েরা অঙ্কনের দিক থেকে এগিয়ে আছে।
তিনি প্রতি বেঞ্চের শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে খুব যতœ সহকারে আন্তরিকতার সহিত শাপলা আঁকা শিখিয়ে দেন। শিক্ষার্থীগণ মনযোগ সহকারে আনন্দের সহিত ছবি আঁকার কাজ করে শিখে। স্যার শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে বুঝিয়ে দেন এবং বলেন, বৃত্ত সুন্দর করে আঁকতে হবে। বৃত্ত দিয়ে বটগাছ আঁকা হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের সাথে মজাও করেন। তিনি হাসি মুখে সকল ছাত্র- ছাত্রীদের সাথে কথা বলেন। স্যার আরও বলেন, শাপলা সুন্দরভাবে আঁকতে হবে, বার বার আঁকতে হবে। যত বেশি আঁকবে আঁকা তত সুন্দর হবে। স্যার বলেন, স্কেল দিয়ে মেপে ৮ সেন্টিমিটার নিয়ে শাপলা আঁকতে হবে। ৮ সেন্টিমিটার বৃত্ত দিয়ে এবার তালগাছ আঁকতে শিখাবো তোমাদের। স্যার ছাত্র- ছাত্রীদের খাতায় শাপলার রং করা কোন অংশে কেমন হবে তা বলে দেন। জনাব মোর্তুজা স্যার প্রতিটি ছাত্র- ছাত্রীদের খাতায় শাপলা ফুল এঁকে দেখান। পানির অংশে সব- সময় সোজা থাকে তাও ছাত্র-ছাত্রীদের বুঝিয়ে বলেন। জনাব মোর্তুজা স্যারের সাথে সাথে শাহিন স্যারও ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে গিয়ে আঁকা সম্পর্কে কিছু উপদেশ দেন। জনাব মোর্তুজা স্যার আমাদের জিজ্ঞাসা করেন যে, আমাদের কিছু সহায়তা লাগবে কিনা। স্যার ছেলে ছাত্রদের বলেন, আঁকা ভালো ভাবে শিখবে কারণ এখন মেয়েরা অঙ্কনে অনেক এগিয়ে।
স্যার শিক্ষার্থীদের শাপলা এঁকে দেওয়ার সময় তাদের নাম ও বাবার নামও জিজ্ঞাসা করেন। স্যার শিক্ষার্থীদের আবারও ৮ সেন্টিমিটার একটি গোল করে তাল গাছ এঁকে ছাত্র- ছাত্রীদের বুঝিয়ে দেন।

তিনি বলেন, তালগাছ দেখতে প্রথমে ললিপপের মত মনে হয়। স্যার বলেন, তালগাছের পাতা অনেক। তালের গাছের একটি পাতা পড়ে গেলে একটি বিট হয়। তালগাছে পাখির বাসা থাকে। কোন পাখি গাছে বসে থাকে আর কোন পাখি আকাশে উড়ে বেড়ায়। তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের তালগাছের পাতা কীভাবে আঁকতে হয় তাও এঁকে দেখান। স্যার ছাত্র-ছাত্রীদের তাড়াতাড়ি আঁকতে বলেন। তিনি বলেন কম হলেও ৩ – ৪ টি আঁকতে হবে। তা না হলে মজা হবে না।
স্যার তালগাছ আঁকার পর সেই তালগাছ দিয়ে দৃশ্য আঁকেন। পাশা- পাশি ২ টি তালগাছ এঁকে মাঝখানে গ্র্রামের রাস্তার দৃশ্য আঁকেন। তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, দুটো তাল গাছের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে ভূত। শিক্ষার্থীরা স্যারের কথায় মজা পায়। ছাত্র- ছাত্রীরা আনন্দের সাথে অঙ্কন করে। স্যার তাল গাছের মাধ্যমে গ্রামের সুন্দর দৃশ্য এঁকে দেখান ছাত্র- ছাত্রীদের। তাল গাছের পাতার রং করতে বলেন, সবুজ আর গাছের রং হবে খয়েরী ও ক্রীম কালার।
স্যার তালগাছ আঁকা প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে গিয়ে শিখিয়ে দেন। গ্রামের দৃশ্য আঁকতেও সাহায্য করেন। প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীও মনযোগ সহকারে শুনতেছিল ও তাদের খাতায় দৃশ্য আঁকতে ছিল। স্যার ছাত্র- ছাত্রীদের বলেন, তালগাছ সোজা দাঁড়িয়ে থাকে। প্রতিটি ছাত্র- ছাত্রী আনন্দের সহিত ছবি আঁকছিল।

তালগাছের দৃশ্য আঁকার পরে স্যার বটগাছেরও ছবি এঁকে দেন বোর্ডে। স্যার বলেন, তালগাছ সবচেয়ে বড় আর বটগাছ হলো সবচেয়ে প্রশস্ত গাছ। স্যার বটগাছ আঁকার পাশপাশি মানুষেরও দৃশ্য এঁকে দেখান। স্যার বটগাছের রং করতে বলেন, সবুজ,টিয়া ও সবুজ। তারপর গাছের রং করতে বলেন, খয়েরী ও কাঠ কালার। এরপর স্যার ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়ির কাজ হিসেবে দেন দৃশ্য, শাপলা ও বটগাছের রং। স্যার বলেন, বটগাছকে বলা হয় মহিরুহু।
স্যার বটগাছ আঁকার মধ্য দিয়ে ক্লাস শেষ করেন ৪:৪৫ মিনিটে।
৪ দিন ব্যাপী চিত্রাঙ্কন প্রশিক্ষন কর্মশালার আজ দ্বিতীয় দিন। ১ম ধাপে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ২ দিন ব্যাপী কর্মশালার আজকে শেষ দিন । প্রশিক্ষক হিসেবে আছেন জনাব মো: মোর্তুজা আলী চৌধুরী। আয়োজনে: ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতন ও রয়েল কিণ্ডারগার্টেন।
চিত্রাঙ্কন কর্মশালার আজকে দ্বিতীয় দিনে প্রতিবেদন লিখায় আছি আমি রুমানা ও মেরিনা ম্যাডাম। স্যার ৩:৩০মিনিটে ক্লাসে প্রবেশ করে কুশল বিনিময় করেন এবং গতদিনের বাড়ির কাজ করেছে কিনা, শিক্ষার্থীরা সে সম্পর্কে জানতে চান।

প্রত্যেক ছাত্র- ছাত্রীর কাছে গিয়ে দেখে তাদের আর্ট ও রং করা ঠিক হয়েছে কিনা। যদিও আজ মেঘলা আকাশে বৃষ্টি তবুও চিত্রাঙ্কনের টানে ছাত্র – ছাত্রীদের উপস্থিতি অবাক করার মতো। ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতনের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ১৫ জন এবং রয়েল কিণ্ডারগার্টেনের ছাত্র – ছাত্রীর সংখ্যা ৪১জন। মোট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৫৬ জন। ক্লাশ শুরুর ১৫ মিনিট স্যার বাড়ির কাজ দেখেন এবং শিক্ষার্থীদেরকে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দেন।
এবারে স্যার শরৎকালের দৃশ্য এঁকে শিক্ষার্থীদের বোর্ডে দেখাচ্ছেন এবং তাদের আঁকতে বলেন। এর মধ্যেই একজন ছাত্র স্যারকে নৌকা আঁকতে বললেন এবং সুন্দর করে রং করতে বলেন। দৃশ্য আঁকার মধ্য দিয়ে স্যার আজকে ক্লাশ শেষ করার কথা বলেন । তিনি শিক্ষার্থীদের উপদেশ দেন, বেশি বেশি অঙ্কন করার, কারণ আঁকার মাধ্যমে মাথার বুদ্ধি বিকশিত হয়। একটা দৃশ্যের মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থী অনেক কিছু জানতে পারে। যেমন এই শরৎকালের দৃশ্য দেখে ছাত্র- ছাত্রীর একটি রচনা দেখে দেখে লিখতে পারবে। রং করার মাধ্যমে জ্ঞান এবং বিভিন্ন রং সম্পর্কে জানা যায়। বেশি বেশি অঙ্কন করলে ধৈর্যশীল হয় ও মনোযোগ বাড়ে। বিশেষ করে চঞ্চল শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি অঙ্কন করলে তাদের মনোযোগ ও হাতের লেখা সুন্দর হয়। এমন কি শিক্ষার্থীদের বলেন যারা মেডিকেলে পড়ে তাদেরকেও আর্ট জানতে হয়। যেমন- হাড়, হৃদপিন্ড, বক্ষ ইত্যাদি আর্ট করলে সবকিছু জানা যায়। কাজে যেমন পরিপাটি আছে তেমনি মনেরও পরিপাটি হলো অঙ্কন শেখা। আজকের ক্লাশ এখানেই শেষ করেন। সময়: ৪: ৪০ মিনিটে।
এরমধ্যে রয়েল কিণ্ডারগার্টেন এর বড় ম্যাডামের অনুরোধে শিক্ষার্থীদেরকে স্যারের কাছে হেমন্ত কালের দৃশ্য সম্পর্কে ধারণা নিতে বলেন। স্যার প্রত্যেক ঋতু সম্পর্কে ছাত্র- ছাত্রীদের ধারণা দেন। আজকের টিফিনে ছিল বিস্কুট।



অভিজ্ঞান পত্র দেওয়ার সময় শাহীন স্যার মো: মোর্তূজা আলী চৌধুরী স্যারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং স্যারের সুস্বাস্থ্য কামনা করেন ও সনদপত্র বিতরণ করেন।
ক্রমিক নং ছাত্র-ছাত্রীদের নাম ক্রমিক নং ছাত্র-ছাত্রীদের নাম
০১ নওসিন জাহান মুসকান ০১ অধরা সেন
০২ আফরিদা তাসনিম রাবিতা ০২ জান্নাতুল ফেরদৌস ত্বোয়া
০৩ মো: জারিফ আফনান আরাফ ০৩ সানজিদা বিনতে সাবা
০৪ মোছা: ফাহমিদা ইসলাম ০৪ কুশ দাস দীপ্ত
০৫ মো: আমির হামজা ০৫ মো: আবু সাঈম
০৬ ইসরাত জাহান তানহা ০৬ সিদ্রাতুল মুনতাহা
০৭ মাইশা আফরিন ০৭ মো: মুহাইমিনুল মোল্লাহ
০৮ রাহমাতিকা তাসনিম ০৮ মো: আল মুবিন ওয়াফী
০৯ নুসরাত জাহান মীম ০৯ মো: শাকিরুল মুবিন
ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতন
পানি উন্নয়ন বোর্ড কলোনী , ঠাকুরগাঁও।


চিত্রাঙ্কন প্রশিক্ষণ কর্মশালা -২০২৩ খ্রি.
২য় পর্ব, ৩য় ও ৪র্থ দিন
স্থান : ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতন
পানি উন্নয়ন বোর্ড কলোনী, ঠাকুরগাঁও।
তারিখ : ২২, ২৩, ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ খ্রি.।
প্রণয়নে : রুমানা আক্তার ও ইয়াসমিন আক্তার সুবর্ণা, সহকারী শিক্ষক।
যৌথ আয়োজনে : ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতন ও রয়েল কিণ্ডারগার্টেন।

৪ দিন ব্যাপী চিত্রাঙ্কন প্রশিক্ষণ কর্মশালা – ২০২৩ খ্রি.
প্রশিক্ষক : জনাব মোঃ মোর্তুজা আলী চৌধুরী
চারুকলা ইন্সটিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী ঠাকুরগাঁও)।
বাস্তবায়নে : শিক্ষকবৃন্দ (ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতন ও রয়েল কিÐারগার্টেন)
তত্ত্বাবধায়ক : জনাব নুরুল হুদা স্বপন ও জনাব মোঃ আবুল হাশেম
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীগণের সংখ্যা :
ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতন ৫ জন
রয়েল কিণ্ডারগার্টেন ১৭ জন
মোট ২২ জন
প্রথমে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রয়েল কিণ্ডারগার্টেন ও ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতন এর অঙ্কন শিক্ষক শাহিন স্যার। কর্মশালার আজ তৃতীয় দিন। শ্রদ্ধেয় মোর্তুজা স্যার আমাদের মাঝে আসেন ৩:২৫ মিনিটে এবং ক্লাস শুরু করেন ৩:৩০ মিনিটে। জনাব মোর্তুজা স্যার বলেন, সকলকে সুস্থ্য থাকার চেষ্টা করতে হবে।


স্যার প্রথমেই পেনসিল পাত্র আর্ট করা শিখাচ্ছেন এবং তিনি পাত্র মাপের কথা বলে দিলেন। ১০ঃ৭ মাপে আর্ট করতে বললেন। এরপর বক্সটার মুখে সিলিন্ডার আঁকলেন। এরপরে পাত্রটির ভিতরে তিনি ডিজাইন করে দিলেন। তিনি বললেন এবং ডিজাইনটিতে হলুদ রঙ করতে বললেন। ছাত্র-ছাত্রীরা বোর্ড দেখে পেন্সিল পাত্র অঙ্কন করলো। এরপর স্যার একই মাপের আরেকটি বক্স আর্ট করে দিলেন। এরপর স্যার পাত্রটির ভিতরে কলস, তুলি, পেনসিল আর্ট করে দিলেন। এরপর স্যার একই মাপের আরেকটি বক্স অঙ্কন করে সেটির চারপাশে আনারস আঁকলো। আনারসের পাতা গুলো সবুজ ও ভিতরটা হলুদ এবং কমলা রঙ করতে বললেন। এরপরে স্যার শিক্ষার্থীদের খাতা চেক করলেন চিত্রগুলোর মাপ ঠিক আছে কিনা, তা দেখলেন।
তারপর স্যার বোর্ডে বক এবং হাঁস অঙ্কন করে শিখিয়েছেন।

আজকের ক্লাস এ পর্যন্তই শেষ সময়- ৪:৫০মিনিট স্যার শিক্ষার্থীদেরকে বাসায় বেশি বেশি করে এই ছবিগুলো আঁকতে বললেন। আগামীকালের জন্য বাড়ির কাজ হিসেবে আজকে যেগুলো করা হয়েছে সেগুলো করে আনতে বললেন।
৪ দিন ব্যাপী কর্মশালার আজ শেষ দিন।
জনাব মোর্তুজা স্যার আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছেন-৩:৩৩ মিনিটে। প্রথমে ক্লাসে এসে জনাব মোর্তুজা স্যার ছাত্র- ছাত্রীদের বাড়ির কাজ দেখতে চান। তার সকল শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে বাড়ির কাজ দেখেন। স্যার সুন্দরভাবে হাসিমাখা মুখে সকল ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কথা বলেন। যাদের বাড়ির কাজ সুন্দর হয়েছে তাদের “ভেরীগুড” বলেন আর যাদের কাজ ভালো মনে হয় নি তাদেরকে আরও সুন্দর করতে বলেছেন। তিনি আরও বলেন রং সুন্দর ভাবে করতে। জনাব মোতুর্জা স্যার যে দৃশ্য আঁকতে ছাত্র-ছাত্রীদের বলেছিলেন, সেই দৃশ্যে কি রং হবে আর কতটুকু অংশে নৌকা হবে এবং বকের ছবির আকার কতটুকু হবে স্যার তাও প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীদের বলেন।



ছাত্র-ছাত্রীরাও স্যারের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছিল। বাইরে যখন রোদ ছিল না তাই পরিবেশ ছিল বেশ মনোরম। স্যার ছাত্র- ছাত্রীদের একটি গল্প বলেন। গল্পটি হলো-
মানুষ যখন কথা বলতে পারত না তখন মানুষ চিত্র এঁকে একে অপরের সাথে কথা বলত। স্যার বলেন, লাস্কো গুহার স্থান হলো ফ্রান্সে। সেখানে এক প্রত্নতত্ত্ববিদ তার পরিবারকে নিয়ে বেড়াতে যায়। সেই প্রতœতত্ত¡বিদের এক ছেলে সেখানে এক বন্য হাতির ছবি দেখতে পায়। সেই ছবিটি হলো যিশু খ্রিস্টের জন্মের ও ২৫-৩০ হাজার বছর আগে। সেই জায়গায় এক মাতৃত্বের মূর্তি পাওয়া যায়। মোর্তুজা স্যার বলেন, আমাদের দেশেও মূর্তি পাওয়া যায় আর সেই স্থান হলো সিন্ধু প্রদেশ। যা পাকিস্তান ও ভারতের সীমান্তে। দুটি গুহা হলো অজন্তা ও ইলোরা। আর সেইখানে যে ছবি ছিল তা হলো বৌদ্ধ ধর্মের। তিনি বলেন এক সময় এই বাংলা শাসন করেছিলেন, ইংরেজরা, পুর্তুগীজরা ও আরও অনেকে। স্যার ছাত্র- ছাত্রীদের বিভিন্ন দেশের মানুষের চেহারা সম্পর্কে ধারণা দেন। স্যার বলেন, আমাদের উপ মহাদেশেও অনেক মূর্তি পাওয়া গেছে কিন্তু ইংরেজরা যখন বাংলা শাসন করে তখন সেই দেশে রক্ষণা- বেক্ষণের অভাবে তা নষ্ট হয়ে যায়। স্যার বলেন, আমাদের দিনাজপুরে এ আছে কান্তজীর মন্দির। এটা আগেরকার দিনের বিদ্যার কেন্দ্র ছিল। মন্দিরের ৪টি দেয়ালে হিন্দুদের ৪টি গ্রন্থের নাম ছবিসহ দেওয়া আছে। জনাব মোর্তুজা স্যার বলেন, সেখানে হিন্দুদের অসংখ্য দেবতার ছবি আছে। স্যার একটি ছবি আঁকেন তিনি বলেন, এই ছবিগুলোকে বলেন টেরাকোডা। এই টেরাকোডা ছিল শাহজাহান যখন তাজমহল নির্মাণ করেন, সেই তখনকার সময়। স্যার বোর্ডে একটি ছোট শাখা নদীর দৃশ্য আঁকেন।
স্যর বলেন, অঙ্কনের মধ্যেও গ্রামার আছে। যেমন, কাছের দৃশ্য বড় দেখায় আর দূরের দৃশ্য ছোট দেখায়। তিনি বলেন, পড়ালেখা আছে সব জায়গায়। অঙ্কন হলেও পড়ালেখা করতে হয়। স্যার আরও বলেন, নাচ-গানের জন্যও পড়ালেখা করতে হয়। জনাব মোর্তুজার স্যার বলেন, ছবি আঁকার মাধ্যমে আমরা ফ্রান্সের প্যারিস হতে বাংলাদেশে আসলাম। জনাব মোর্তুজা স্যার বলেন ঠিক এই রকম একটি দৃশ্য আমি সুই সুতা দিয়ে করেছি। স্যার বলেন ফ্রান্সে এই গুলোর অনেক মূল্য। তিনি বলেন, হাতে কলমে এসব করাকে কারুকাজ বলে। স্যার ছাত্র-ছাত্রীদের মজার মজার গল্পও বলেন। কোন কোন জায়াগায় কি রং হবে স্যার ছাত্র- ছাত্রীদের তাও বলে দেন। স্যার বলেন, কালো রং কোনো রং নয়। সাদা রং হলো সমস্ত রঙ্গের মিশ্রণ। স্যার বলেন, কালো রং শিল্পীরা তৈরি করেন লাল ও চকলেট দিয়ে। মৌলিক রং ৩টি- লাল, নীল ও হলুদ। কমলা, সবুজ ও বেগুনি এগুলো যৌগিক রং।
স্যার বলেন, আমাদের দেশের কোন ছবি যদি বাইরে যায় তাহলে বাইরের দেশের মানুষ দেখে বলে এটা বাংলাদেশের মানুষের আঁকা ছবি।


স্যার শিক্ষার্থীদের বললেন, আমরা কেউ মায়ের পেট হতে শিখে আসি না। যে যত বেশি অনুশীলন করব সেই ততবেশি শিখব। অনুশীলন মানুষকে উপযুক্ত তৈরি করে তোলে। স্যার সুন্দর ভাবে একজন ছাত্রকে ছবি এঁকে দেখান। ক্লাসের সকল শিক্ষার্থী অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে বোর্ডে দৃশ্যটি অংকন করেন। স্যার ছাত্র- ছাত্রীদের কয়েকজন বাংলাদেশের শিল্পীর নাম বলতে বলেন। শিক্ষার্থীরা বলে, জয়নুল আবেদীন, এস.এম.সুলতান ও শিল্পী কামরুল হাসান। স্যার বলেন এস. এম. সুলতানের প্রতিটি ছবিতে মানুষের মাসেল দেখা যায়। আর এর কারণ হিসেবে এস. এম. সুলতান বলেন, আমার মতে মানুষ সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাণী। এস. এম সুলতান কোনো একাডেমিক পাশ করেন নি। স্যার বলেন, সকল প্রকার ছবির নোট শিক্ষার্থীদের লিখে রাখতে। স্যার সকল শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে ছবি আঁকা দেখেন এবং রং করাও দেখেন। যাদের দৃশ্য আঁকতে একটু অসুবিধা হচ্ছিল স্যার তাদের কাছে গিয়ে সুন্দরভাবে দৃশ্য এঁকে দেন। স্যার সকল শিক্ষার্থীকে বেশি বেশি অঙ্কন করতে বলেন।
স্যার সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে কার্যক্রম শেষ করেন ৫:০৮ মিনিটে। এবং সকল শিক্ষার্থীকে অভিজ্ঞানপত্র প্রদান করেন।


চিত্রাঙ্কন কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীর নামের তালিকা
শ্রেণি: তৃতীয় (২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর)
ক্রমিক নং ছাত্র-ছাত্রীদের নাম
০১ আব্দুর রহমান যারিফ
০২ মাইশা আফরিন
০৩ রাহমাতিকা তাসনিম
০৪ নুসরাত জাহান মীম
০৫ আবু তাওয়াব ফাইয়াজ
জাতীয় শোক দিবস-২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ উপলক্ষে প্রতিবেদন

স্থান : ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতন।
তারিখ: ১৫ আগস্ট ২০২৩ খ্রি.।
সময় : সকাল ৮:০০টা থেকে সকাল ১১:০০টা পর্যন্ত।
ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতন
পানি উন্নয়ন বোর্ড কলোনী, ঠাকুরগাঁও
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠান সূচি -২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ
অনুষ্ঠান সময়সূচি: সকাল ৮:০০টা থেকে সকাল ১১:০০টা পর্যন্ত
⚫ উপস্থাপনায় : মোছা. শিউলী আক্তার, সহকারী শিক্ষক।

বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম
আমি ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতনের মাননীয় পরিচালক মহোদয় জনাব নুরুল হুদা স্বপন ও জনাব মো: আবুল হাশেম এবং ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতনের অধ্যক্ষ জনাব উম্মে কুলসুম মেমকে আসন গ্রহণ করার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।
এখন আজকের অনুষ্ঠান শুরু করার জন্য উনাদের কাছ থেকে অনুমতি প্রার্থনা করছি। ধন্যবাদ অনুমতি প্রদান করার জন্য।
এই সিঁড়ি নেমে গেছে বঙ্গোপসাগরে,
সিঁড়ি ভেঙে রক্ত নেমে গেছেÑ
বত্রিশ নম্বর থেকে
সবুজ শস্যের মাঠ বেয়ে
অমল রক্তের ধারা বয়ে গেছে বঙ্গোপসাগরে।
🔹 আজ আমাদের মনপ্রাণ এক গভীর ব্যথায় কাতর। আজ সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮ তম শাহাদাত বার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাতে রাজধানী ঢাকায় সংঘটিত হয়েছিল ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়।
🔹 জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের নিজ বাসায় সেনাবাহিনীর কতিপয় বিপদগামী সেনা সদস্যের হাতে স্বপরিবারে নিহত হন। সেদিন তিনি ছাড়াও ঘাতকের বুলেটে নিহত হন বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেছা মুজিব। এছাড়াও তাদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনসহ নিহত হন আরও ১৬ জন।
🔹 ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতন কর্তৃক আয়োজিত আজকের এই শোক দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানাই। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় আছি আমি সহকারী শিক্ষক শিউলী আক্তার।
🔹 অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রথমে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করার জন্য অনুরোধ করছি ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতনের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মো: আব্দুল্লাহ আল মুনতাসিম কে। মো: আব্দুল্লাহ আল মুনতাসিমকে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করার জন্য ধন্যবাদ।
🔹 এবার গীতা থেকে পাঠ করার জন্য অনুরোধ করছি ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতনের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী হিতৈষী বর্মণ স্নিগ্ধাকে।
হিতৈষী বর্মণ স্নিগ্ধাকে গীতা থেকে পাঠ করার জন্য ধন্যবাদ।
🔹এবারে ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতনের মাননীয় অধ্যক্ষ উম্মে কুলসুম মেমকে তার শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবার জন্য অনুরোধ করছি।
ধন্যবাদ অধ্যক্ষ উম্মে কুলসুম মেমকে তার বক্তব্যের জন্য।
আগস্ট মাসের ১৫ তারিখ আঁধার ঘেরা রাতে
দেশদ্রোহিরা হামলা চালায়
মহান নেতার গাতে\
তার আরো যে স্বজন ছিলো পায় যেখানে
যাকে- হত্যা করে তাকে।
দেশ প্রকৃতির রঙিন ছবি শেষ করেছে তারা
ওদের একদিন বিচার হবে কেউ পাবে না ছাড়া।
🔹 এবারে জাতীয় শোক দিবসের বক্তব্য রাখার জন্য অনুরোধ করছি ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতনের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী তাহমিনা তাবাস্সুম তমাকে।
ধন্যবাদ তাহমিনা তাবাসসুম তমাকে তার চমৎকার বক্তব্যের জন্য।
🔹 এবারে জাতীয় শোক দিবসের বক্তব্য রাখার জন্য অনুরোধ করছি ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতনের ক্ষুদে বক্তা ৫ম শ্রেণির ছাত্রী মোছা: কামরুন নাহার মালিহাকে।
ধন্যবাদ, মোছা: কামরুন নাহার মালিহাকে তার সুন্দর বক্তব্যের জন্য।
🔹 এবারে জাতীয় শোক দিবসের বক্তব্য রাখার জন্য অনুরোধ করছি ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতনের ক্ষুদে বক্তা তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী নিশাত তানজিলা তমাকে।
ধন্যবাদ, নিশাত তানজিলা তমাকে তার তথ্য সমৃদ্ধ বক্তব্য উপস্থাপন করার জন্য।
🔹 বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর গোটা বিশ্ব নেমে এসেছিল শোকের ছায়া। হত্যাকারীদের প্রতি ছড়িয়ে পড়েছিল ঘৃণার বিষবাষ্প।
🔹 প্রিয় সুধী,এখন জাতীয় শোক দিবসের বক্তব্য প্রদান করার জন্য অনুরোধ করছি ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতনের সহকারী শিক্ষক মোছা:সেলিনা বেগম কে ।
ধন্যবাদ মোছা:সেলিনা বেগম কে তার মর্মস্পর্শী বক্তব্যের জন্য।
🔹 পশ্চিম জার্মানির নেতা, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী উইলি ব্রানডিট বলেছিলেন,
“মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে, তারা যেকোনো জঘন্য কাজ করতে পারে।”
🔹 এবারে জাতীয় শোক দিবসের বক্তব্য রাখার জন্য অনুরোধ করছি ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতনের সহকারী শিক্ষক মোছা: নুরজাহান বেগমকে।
ধন্যবাদ। মোছা: নুরজাহান বেগমকে তার মূল্যবান বক্তব্যের জন্য।
বাঙালি জাতির চির কলঙ্ক পনেরই আগস্ট ওরে,
শোকের ছায়া নেমেছিল সেদিন খোদার দুনিয়া জুড়ে।
🔹 এবারে জাতীয় শোক দিবসের বক্তব্য রাখার জন্য অনুরোধ করছি ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতনের সহকারী শিক্ষক মোছা: মুনিরা বেগমকে।
ধন্যবাদ। মোছা: মুনিরা বেগমকে তার তথ্যসমৃদ্ধ বক্তব্যের জন্য।
🔹 প্রিয় সুধী, আমি বিনীত ভাবে অনুরোধ করছি ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতনের মাননীয় পরিচালক নুরুল হুদা স্বপন স্যারকে তার মূল্যবান বক্তব্য উপস্থাপন করার জন্য।
ধন্যবাদ, সম্মানিত পরিচালক নুরুল হুদা স্বপন স্যারকে তার মূল্যবান বক্তব্য উপস্থাপন করার জন্য।
🔹এখন আমি বিনীত অনুরোধ করছি অধ্যক্ষ মহোদয়কে অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখার জন্য।
⚫সভাপতি ও স্বাগত বক্তব্য : মোছা. উম্মে কুলসুম , অধ্যক্ষ।

বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহিম,
“তুমি জন্মেছিলে বলেই
জন্ম নিয়েছিল দেশ,
মুজিব তোমার আরেকটি নাম
স্বাধীন বাংলাদেশ।”
আজ ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতন কর্তৃক আয়োজিত আজকের এই আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন, আমাদের সকলের শ্রদ্ধাভাজন পরিচালক বৃন্দ, আমার সহকর্মীবৃন্দ ও স্নেভাজন ছাত্র-ছাত্রীরা আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহ্মাতুল্লাহ্।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮ তম মৃত্যু বার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধার সাথে তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। স্মরণ করছি, মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হওয়া ৩০ লাখ শহিদদের। স্মরণ করছি, জাতীয় ৪ নেতাকে। স্মরণ করছি ৭৫ এর কালো রাতের সকল শহিদদের। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাতে রাজধানী ঢাকায় সংগঠিত হয়েছিল ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়। স্বাধীন বাংলার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ধানমন্ডির ৩২ নম্বর নিজ বাসভবনে বিপদগামী সেনাসদস্যের হাতে স্বপরিবারে নিহত হন।
এ দিবসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সেই সাথে তরুণ প্রজন্ম যেন বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতে পারে এবং বাংলাদেশের প্রতি তার অবদান কতটুকু সে সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারে এজন্য বিভিন্ন ধরনের আয়োজন করা হয়। এই দিবসটি উপলক্ষে আমাদের রচনা লিখন ও আবৃত্তি প্রতিযোগীতা হয়েছে। এখন আমরা আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে আমাদের অনুষ্ঠান শেষ করবো। তার আগে এই দিবসটি সম্পর্কে আমরা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও আমাদের পরিচালক মহোদয়ের কাছ থেকে শুনবো। আমি আবারও বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং সেই সাথে আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি।
আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
⚫ কোরআন তেলাওয়াত : মুনতাসিম (৫ম শ্রেণি)।

⚫ গিতা পাঠ : ৩য় শ্রেনির ছাত্রী হিতৈষী বর্মণ স্নিগ্ধা।

⚫ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতন কর্তৃক আয়োজিত আলোচিত অনুষ্ঠানে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে যারা বক্তব্য রেখেছেন-
১ম বক্তব্য : তাহমিনা তাবাস্সুম তমা, ৫ম শ্রেণির ছাত্রী।

বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহিম
উপস্থিত পরিচালকবৃন্দ ও শিক্ষক- শিক্ষিকা, আমার সহপাঠী ও ছোট ভাই বোনদের প্রতি রইল আমার সালাম। আস্সালামু আলাইকুম ও রহমাতুল্লাহ।
সেদিন আকাশে সূর্য ছিল না। সেদিন অন্তিম হয়ে গিয়েছিল বাঙালির সূর্য বাঙালির হাসি মলিন হয়ে গিয়েছিল সেদিন। সেদিন নিঃস্ব এবং হাহাকার কান্নার স্রোতে ভেসে গেছিল বাংলাদেশের জনতার চোখ।
আজ ১৫ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঘাতকদল নির্মমভাবে হত্যা করেছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। কী দোষ ছিল তাঁর? মানুষকে ভালোবাসতেন তিনি। এটাই কী তাঁর দোষ? কী দোষ ছিল তাঁর পরিবারের। কী দোষ ছিল যে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল নিষ্পাপ শিশুটিকে? ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দেন। তাঁর ডাকে সারা দিয়ে বাঙালি জাতি ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তিসংগ্রামে। লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমরা অর্জন করি স্বাধীনতা। এরপর বাংলাদেশের শাসনভার গ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু। তিনি যখন এই দেশকে সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ঠিক তখন একদল ঘাতকের হাতে তাঁর মৃত্যু হয়। বাঙালি জাতি হারায় এব অবিসংবাদিত নেতাকে।
আজ বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তারপরেও তিনি বেঁচে আছেন বাংলার অগনিত মানুষের হৃদয়ে। তাঁর আদর্শ লালন করছে আজো লাখও বাঙালি। শুধু নাম নয়, তিনি একটি ইতিহাস হয়ে আছেন বাঙালির হৃদয়ে। তাকেও ১৫ আগস্টে শহিদ হওয়া সকলকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি আমার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষ করছি। ধন্যবাদ সকলকে, আস্সালামু আলাইকুম।
২য় বক্তব্য : মোছা: কামরুন নাহার মালিহা, ৫ম শ্রেণির ছাত্রী।

বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহিম
“যতদিন রবে পদ্মা, মেঘনা, গৌরী, যমুনা বহমান
ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান”
উপস্থিত পরিচালকবৃন্দ ও শিক্ষক- শিক্ষিকা, আমার সহপাঠী ও ছোট ভাই বোনদের প্রতি রইল আমার সালাম। আসসালামু আলাইকুম ও রহমাতুল্লাহ।
আজ ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস। ১৯৭৫ সালের এইদিনে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপরিবারে একদিন বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে নিহত হন। বাঙালি জাতির জীবনে সূচিত হয় এক কলঙ্কময় অধ্যায়। বর্তমান সরকার দিনটিকে জাতীয়ভাবে পালনের জন্য যে মহতী উদ্যোগ নিয়েছে তা জেনে বাঙালি হিসেবে আমি গর্বিত।
সুধীমন্ডলী, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর বজ্রকণ্ঠের সামনে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ছিল অসহায়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মাত্র একটি রাত, যা বাঙালির জীবনে নামিয়ে আনল আঁধার। স্বাধীনতা বিরোধী তাপশক্তির হাতে বঙ্গবন্ধুর স্বপরিবারে নিহত হওয়ার খবরে আকাশে বাতাসে শুরু হলো ক্রন্দনা। এই মহান মানুষকে হারিয়ে আমরা হলাম রিক্ত।
“যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই,
যদি রাজপথে আবার মিছিল হতো
বঙ্গবন্ধুর মুক্তি চাই, মুক্তি চাই, মুক্তি চাই।
তবে বিশ্ব পেত ফিরে মহান নেতা
আমরা পেতাম ফিরে জাতির পিতা।”
হ্যাঁ, মাননীয় সভাপতি ও সুধীবৃন্দ এটা শুধু নিছক গান নয়। সমগ্র বাঙালি জাতির হৃদয়ের বেদনা ও হাহাকারের সুর। যে সুরে ধ্বনিত হয়েছে সন্তান হারা মায়ের আর্তনাদ। পিতার সকরুণ বেদনা, সমগ্র জাতির কণ্ঠে এই বেদনাবিধুর সুর ধ্বনিত হয়েছে বিশ্ববিধাতার কাছে সকরুণ ফরিয়াদ হিসেবে। হ্যাঁ, তিনি মরেন নি। ব্যক্তিকে মেরে কখনোই তাঁর আদর্শকে মারা যাবে না। বেঁচে আছে তাঁর আদর্শ অনুযায়ী স্বপ্নের বাংলাদেশ।
আজকের এই শোকাবহ দিনে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি। ধন্যবাদ সকলকে, আস্সালামু আলাইকুম।
৩য় বক্তব্য : নিশাত তানজিলা তমা, ৩য় শ্রেণির ছাত্রী।

বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহিম,
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতন কর্তৃক আয়োজিত রচনা লিখন আবৃত্তি প্রতিযোগিতা আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত পরিচালকবৃন্দ ও শিক্ষক- শিক্ষিকা, আমার সহপাঠী ও ছোট ভাই বোনদের প্রতি রইল আমার সালাম। আসসালামু আলাইকুম ও রহমাতুল্লাহ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মহান নেতা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালির জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সামরিক বাহিনীর কতিপয় বিপথগামী সদস্যের হাতে স্বপরিবারে নিহত হন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। তাই এ দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনে জেল- জুলুম, অত্যাচার – নির্যাতন আর স্বৈর শাসকের রক্তচক্ষু ছিল বঙ্গবন্ধুর নিত্যসঙ্গী। তিনি নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন বহুবার। একাধিক বার ফাঁসির মঞ্চ তৈরি হয়েছিল তাঁর জন্য। বাঙ্গালীর প্রতি তাঁর বিশ্বাস ও আস্থা ছিল আকাশচুম্বী।
সেজন্যই হাসিমুখে, নির্ভীকচিত্তে মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সব ধরনের জুলুম- নির্যাতন বরণ করেছেন তিনি। আমৃত্যু একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিবাদী ও অসম্প্রদায়িক সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন তিনি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে শুধু ব্যাক্তিকে নয় বরং একটি রাজনৈতি হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির জন্য এক বিষাদময় অধ্যায়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ইমডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে যুদ্ধাপরাধিদের বিচারের পথ খুলে দেয়। সেই অধ্যাদেশ বাতিলের পর দেরিতে হলেও বিচারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন দেশে। পলাতক খুনিদের দেশে এনে তাদের শাস্তি কার্যকর করা সরকারের দায়িত্ব। সরকার ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবসকে ঘোষণা দেয়। এরপর থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে দিনটি। দিনটিকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে এই দিন নানা ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতির পিতার প্রকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল , আলোচনা অনুষ্ঠান, স্মরণ সভা ও বাঙালি ভোজের ও আয়োজন করা হয়। বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্নের বাংলাদেশের যথাযথ রূপায়নই হবে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের সর্বোত্তম উপায়। সেই লক্ষে জাতীয় শোক দিবসের প্রতিজ্ঞা হোক -“শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে।”
⚫শিক্ষকগণের মধ্যে থেকে যারা বক্তব্য রাখেন-
১ম বক্তব্য : সেলিনা বেগম, সহকারী শিক্ষক।

বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আজ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতন কতৃক আয়োজিত রচনা লিখন আবৃত্তি প্রতিযোগিতা আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন সম্মানিত পরিচালক মহোদয়, অধ্যক্ষ উম্মে কুলসুম মেম ও আমার সহকর্মীবৃন্দ এবং স্নেহের ছাত্র- ছাত্রীবৃন্দ সকলের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও সালাম, আস্সালামু আলাইকুম।
🔸 আজ সরকারি ছুটির দিন। দিনটি সরকারি ভাবে পালিত হবে। আজ জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। সরকারি ও বেসরকারি ভবনে উড়বে শোকের কালো পতাকা।
🔸 সমবেত সকলের মত আমিও গোলাপ ফুল খুব ভালোবাসি। বাড়ি থেকে আসার পথে বাগানের সেই সব গোলাপের একটি গোলাপ আমাকে বলেছে, আমি যেন বক্তব্যে শেখ মুজিবের কথা বলি। আমি তার কথাই বলতে এসেছি।
🔸 আজ স্বাধীনতার মহান স্থপতি মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিক নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮ তম শাহাদাত বার্ষিকী। আজাকের এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি ৭৫ এর কালো রাতের সকল শহিদদের।
🔸 ১৯৭৫ সালে এই দিনে কাক ডাকা ভোরে বিপথগামী কিছু সেনা সদস্য ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করে। বাঙালী জাতির ললাটে একে দেয় কলংকের তিলক। ইতিহাসের জঘন্যতম নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটে এই কালো রাতে।
🔸 এই দিন গোটা বাঙালি জাতিকে কলংঙ্কিত করেছিল সেনাবাহিনীর উশৃংখল কিছু বিপথগামী সদস্য। সেদিন রাতে ধানমন্ডির ৩২ নং ভবনে ঘাতকের নির্মম বুলেট বিদ্ধ করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বুক।
🔸 অকুতোভয় বঙ্গবন্ধু ঘাতকের বুলেটের সামনে দাড়িয়েও খুনিদের কাছে জানতে চেয়েছিল- তোরা কী চাস? আমাকে কোথায় নিয়ে যাবি? বঙ্গবন্ধুর বুকে গুলি চালাতে হাত কাঁপেনি খুনিদের।
🔸 দিনটি ছিল সরকারি ছুটির দিন। এই দিন ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করে নি। তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু পুত্র শেখ রাসেল সহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল, রোজি জামাল।
🔸 পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকান্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আব্দুর রব, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবি ও সুকান্ত। বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মনি। তার অন্তসত্ত¡া স্ত্রী আর্জু মনি এবং আব্দুল নাইম খান রিন্টু ও কর্ণেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য।
🔸 এই সময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান। যে কাজটি বর্বর হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীও সাহস করেনি সেটিই করল এদেশের কিছু কুলাঙ্গার।
🔸 তিনি যখন যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে গঠন করতে দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছিলেন। তখনই ঘটানো হয় এই নৃশংস ঘটনা। পরিসমাপ্তি ঘটে একটি ইতিহাসের।
🔸 সে থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম আকাশে বাতাসে ও মানুষের মন থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছে ষড়যন্ত্রকারী ঘাতকরা। যা কোনো দিন হয় নি, হবেও না।
🔸 বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ ও মাটির জন্য আজীবন যুদ্ধ করে গিয়েছেন। তিনি চেয়েছিলেন চমৎকার একটি বাংলাদেশ গড়ার।
🔸হে বন্ধু বঙ্গবন্ধু, তোমার কালো ফ্রেমের চশমাটা আমায় দাও, মি চোখে দিয়ে দেখবো । তুমি কেমন করে দেশটাকে এতো ভালোবেসেছ।
ওরা ভেবেছিল তোমাকে মারলে হয়ে যাবে সব শেষ। ওরা তো জানেনা বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ।
আমি আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
২য় বক্তব্য : নুরজাহান বেগম, সহকারী শিক্ষক।

বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহিম
“ওরা ভেবেছিল তোমাকে মারলে হয়ে যাবে সব শেষ
ওরা জানে না বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ।”
উপস্থিত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে অত্র প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আয়োজিত আজকের সভায় উপস্থিত সম্মানিত পরিচালক বৃন্দ, অধ্যক্ষ মহোদয়, আমার সহকর্মীবৃন্দ ও সকল শ্রেণির ছাত্র- ছাত্রীবৃন্দ সকলকে আমার সালাম। আস্সালামু আলাইকুম।
কেঁদেছিল আকাশ ফুপিয়েছিল বাতাস, বৃষ্টিতে নয়, ঝড়ে নয়, এ অনুভূতি ছিল পিতা হারানোর শোকের। প্রকৃতি কেঁদেছিল কারণ মানুষ কাঁদতে পারেনি। ঘাতকের ঔদ্ধত্য বক্তচক্ষু দান তাদের কাঁদতে দেয়নি। তবে ভয়ারত বাংলার প্রতিটি ঘর থেকে এসেছিল চাপাতির গোশ্বাস। কি নিষ্ঠুর ভয়াল, কি ভয়ংকর সেই রাত। আজ রক্তঝড়া অশ্রুভেজা ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস, বাঙালি জাতির শোকের দিন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এই দিনে ভোরের আলো ফোঁটার আগেই ধানমন্ডির ৩২ নম্বর নিজ বাসায় বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করেছিল এদেশের ক্ষমতা লোভী নরপশু কুচক্রী মহল। সেদিন তিনি ছাড়াও ঘাতকের বুলেটে নিহত হন বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব। এছাড়াও তাদের পরিবারের সদস্য আত্মীয় স্বজনসহ নিহত হন আরো ১৬ জন। ঐ সময় দেশের বাহিরে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর জেষ্ঠ্য কন্যা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা। আজকের এই শোক সভায় সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। মুজিব আমার চাঁদের আলো মিষ্টি বোনদের হাসি দেশের সকল মানুষ মোরা তোমায় ভালোবাসি। শেখ মুজিবুর রহমান কেবল এক ব্যক্তির নাম নয়। আমার বঙ্গবন্ধু একজন দার্শনিক যিনি মুক্তিযুদ্ধের ২০ বছর আগে থেকেই স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। আমার বঙ্গবন্ধু এদেশের মানুষের ছিনিয়ে আনা লাল- সবুজের পতাকা। একটি ইতিহাস একটি মহাকাব্য একটি বাংলাদেশ। আমার বঙ্গবন্ধু যিনি ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে দিয়ে গেছেন স্বাধীন বাংলাদেশ। যার ফলস্বরুপ ৫৬ বছর বয়সের জীবনের ৪৬৮২ দিন তাকে কাটাতে হয়েছিল কারাগারের কাল কুঠুরিতে।
এ বন্দিত্ব তিনি ভোগ করেছিলেন দুঃখী মানুষের জন্যে। স্ত্রী সন্তান নিয়ে তিনি সংসার জীবন কাটিয়ে দিতে পারতেন অন্য যে কোন পেশায়। নিশ্চিন্তে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু তিনি তা করেন নাই মানুষের কথা ভাবেন বলে। আমার বঙ্গবন্ধু যিনি ৭ মার্চের মাত্র ১৮ মিনিটের এক ভাষণে এক আঙ্গুল উঠিয়ে সারা বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষকে শিখিয়ে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ। স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন স্বাধীনতার। স্বাধীনতার পরই আমার বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়ে বাংলা ভাষার মান সমুন্নত করেছেন। কিন্তু হায় কী দূর্ভাগ্য আমাদের। ধরে রাখতে পারেনি আমরা আমাদের বঙ্গবন্ধুকে। একদল অকৃতজ্ঞ বাঙ্গালি নৃশংসভাবে হত্যা করে আমাদের বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারকে।
ঘাতক দল ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে তাঁর নাম ইতিহাস থেকে চিরতরে মুছে ফেলবে। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন সফল হয় নি।
ঘাতকরা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার যে পথ সৃষ্টি হয়েছিল সেখান থেকে দেশকে সরিয়ে বিপরীতমুখী করার উদ্দেশ্য ছিল তাদের একটি বড় লক্ষ্য। দীর্ঘ দিন পরে হলেও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার হয়েছে। আজ আমার বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বলতে গেলে হয়তো মহাকাব্য হয়ে যাবে। কিন্তু কথা ফুরাবে না। আমার বঙ্গবন্ধু একটি চেতনার নাম যিনি জাগ্রত আছেন প্রতিটি বাঙ্গালির হৃদয়ে। পাকিস্তান থেকে বাংলাদশ প্রতিষ্ঠিত করতে বঙ্গবন্ধুর সময় পেয়েছিলেন ২৩ বছর। আর স্বাধীন বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাত্র সাড়ে তিন বছর। ফলে ২৩ বছরের নেতৃত্ব গড়া স্বদেশকে সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা সফল করে তুলতে পারলেই তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো স্বার্থক হবে। আসুন আমরা সবাই মিলে মিশে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তুলি। জাতীয় শোক দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।
৩য় বক্তব্য : মুনিরা বেগম, সহকারী শিক্ষক।

বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
কেঁদেছিল আকাশ ফুপিয়েছিল বাতাস, বৃষ্টিতে নয়, ঝড়ে নয়, এ অনুভূতি ছিল পিতা হারানোর শোকের। প্রকৃতি কেঁদেছিল কারণ মানুষ কাঁদতে পারেনি। ঘাতকের ঔদ্ধত্য রক্তচক্ষু দান তাদের কাঁদতে দেয়নি। তবে ভয়ারত বাংলার প্রতিটি ঘর থেকে এসেছিল চাপাতির গোশ্বাস। কি নিষ্ঠুর ভয়াল, কি ভয়ংকর সেই রাত। আজ রক্তঝড়া অশ্রুভেজা ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস, বাঙালি জাতির শোকের দিন।
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ফুলকুঁড়ি শিশু নিকেতন কর্তৃক আয়োজিত রচনা লিখন আবৃত্তি প্রতিযোগিতা আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন সম্মানিত পরিচালক মহোদয়, অধ্যক্ষ ও আমার সহকর্মীবৃন্দ এবং স্নেহের ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ সকলকে আমার সালাম, আসসালামু আলাইকুম।
আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮ তম শাহাদাত বার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধায় তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ভোরের আলো ফোঁটার আগে বাঙালি জাতির মুক্তির আলো দেখানো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। দেশি বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা দেশকে নেতৃত্ব শূন্য করতে এবং চূড়ান্ত ভাবে মুক্তিযুদ্ধের চিন্তা চেতনাকে সম্পূর্ন স্তদ্ধ করে দিয়ে দেশের চাকাকে পশ্চাৎমুখী করার জন্য তাকে হত্যা করা হয়। যা ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সর্বপ্রথম ১৫ আগস্ট দিনটিকে শোক দিবস হিসেবে পালন করতে প্রস্তাব দেন এবং প্রতি বছর এই দিনে সারা দেশব্যাপী শোক দিবস পালন করা হয়।
১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের পর ৫৪ যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬৬ ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যূাত্থান, ৭০ এর ঐতিহাসিক বিজয় বাঙালি জাতির মনে আশার সঞ্চার করে। আর এই আশার সঞ্চার সম্ভব হয়েছিল শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুদৃঢ় নেতৃত্বের জন্য। যাকে ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার কথা চিন্তা করাই যায় না। ১৯৭১ সালের মার্চ মাস জুড়ে পাকিস্তানির রাজনীতি জটিল আবর্তে পতিত হয়।
৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ যা বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে যায় সাত কোটি বাঙালি যেন ৭ কোটি ফুল হিসেবে ফুঁটে। এ ভাষণ সমগ্র বাংলার মানুষকে একত্রিত করে যা দেশ স্বাধীন করার চেতনাকে আরও দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করে। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানিরা ঘুমন্ত বাঙালির অর্তকিত ঝাপিয়ে পড়ে, গণহত্যা শুরু করে, জ্বালিয়ে দেয় হাজার হাজার ঘরবাড়ি যাকে অপারেশন সার্চলাইট বলা হয়।
২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে, পাকিস্তানিদের হাতে বন্দি হন বঙ্গবন্ধু। ৩০ লাখ শহিদদের রক্ত আর আড়াই লাখ মা বোনদের নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথেই ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। ২৬ মার্চ থেকে ২৮৮ দিন পাকিস্তানে কারা ভোগ করে তিনি তার স্বাধীন স্বপ্নের দেশে প্রত্যাবর্তনের পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল জনসভায় তিনি তাঁর মানসগুরু রবীন্দ্রনাথ কে উদ্দেশ্য করে বলেন কবি গুরু তুমি বলেছিলে সাত কোটি বাঙালির হে মুগ্ধ জননী, রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করো নি। কবিগুরু আজ আমার বাঙালিরা মানুষ হয়েছে। তোমার আপেক্ষ মিথ্যা প্রমাণ করেছে। আমার বহু দিনের সাধ পূর্ণ হয়েছে।
১৯৭৫ সালের স্বাধীনতা দিবসে তিনি বলেন, বাংলার জনগণের এক নম্বর কাজ হবে দুর্নীতি বাজদের বাংলার মাটি থেকে উৎখাত করা।
বঙ্গবন্ধু স্বপ্নের সোনার বাংলাকে নিয়ে যে সপ্ন দেখেছিলেন তা ১৫ আগস্টে ঘাতকেরা নিঃশেষ করে ফেলে।
সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমি আমার বক্তব্য শেষ করছি। আসসালামু আলাইকুম।
⚫ পরিচালকের বক্তব্য : মো: নুরুল হুদা স্বপন , পরিচালক।

বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
সকলকে শুভেচ্ছা ও সালাম আস্সালামু -আলাইকুম। তোমরা কী জানো আজ কত তারিখ ? আজ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। আজকে আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি, বাংলাদেশ হিসাবে লিখতে পারি সেই লোকটিকে যখন মানুষ ফজরের নামায পড়তে যাবে সেই সময় বাংলাদেশের কুচক্রী কিছু মানুষ স্বপরিবারে সকলকে গুলি করে হত্যা করে। ছোটবেলায় বঙ্গবন্ধুর নাম ছিল খোকা। আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামী ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজকের এই আয়োজন করার কারন বঙ্গবন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। আজকের এই বাংলাদেশ এর নাম কে দিয়েছে? এই দেশের নাম বাংলাদেশ রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের কথা তুলে ধরেন। দেশ ভাগের মধ্য দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান নামে পৃথক করেন এই দেশ। ১৯৪৮ সালে ৪ঠা জানুয়ারি তিনি ছাত্রলীগ গঠন করেন। ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য আন্দোলন করেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন। ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য আন্দোলন করেন। । ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারি প্রত্যাহার করেন। ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন করেন। শেখ মুজিবুর রহমানের দফা হলো একটাই সেটা হলো আমার বাংলাদেশ। এই দেশ যতদিন থাকবে ততদিন এই বঙ্গবন্ধু থাকবে। আমাদের জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা এসব কিছুর মূলে রয়েছে বঙ্গবন্ধু। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৫ সালে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্টে ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে খান্ত হননি তার পুরো পরিবারকে হত্যা করে। কপাল গুণে সেদিন বেঁচে গেছিলেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। ১৯৮৫ সালে যখন শেখ হাসিনা দেশে আসে ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়িতে যেতে দেওয়া হয় নি। তখন তিনি রাস্তায় বসে তার মৃত পরিবারের জন্য দোয়া করেন। ১৯৮০ সালের পর থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম এদেশ থেকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু ১৯৯৬ সালে পর থেকে বঙ্গবন্ধু নামটি মানুষের মুখে মুখে আবার উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তাঁর প্রতি আমাদের ঋণ কখনো শোধ হবে না। যতদিন দেশ ও বাঙ্গালী থাকবে ততদিন প্রতিটি বাঙ্গালির মনে তিনি অমর হয়ে থাকবেন।
⚫প্রতিবেদনকারী : রুমানা আক্তার ও ইয়াসমিন আক্তার সুবর্ণা ।
⚫রচনা লিখন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় যারা পুরস্কার পেয়েছেন তাদের নামের তালিকা:
নামের তালিকা-২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ রচনা লিখন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার ফলাফল :
| | | রচনা লিখন প্রতিযোগিতা | | | আবৃত্তি প্রতিযোগিতা |
| শ্রেণি | স্থান | নাম | শ্রেণি | স্থান | নাম |
| ৩য় | ১ম | মাইশা আফরিন | ৩য় | ১ম | হিতৈষী বর্মন স্নিগ্ধা |
| ৩য় | ২য় | নিশাত তানজিলা তমা | ৩য় | ২য় | উম্মে সুরাইয়া সিমি |
| ৩য় | ৩য় | হুমায়রা জান্নাতি | ৩য় | ৩য় | নুসরাত জাহান মীম |
| ৪র্থ | ১ম | মো: মুশফিক হাসান | ৪র্থ | ১ম | জাকিয়া সুলতানা জুঁই |
| ৪র্থ | ২য় | মোছা: সুমাইয়া আক্তার | ৪র্থ | ২য় | মো: মুশফিক হাসান |
| ৪র্থ | ৩য় | ইফতেখারুল ইসলাম তুহিন | ৪র্থ | ৩য় | ইফতেখারুল ইসলাম তুহিন |
| ৫ম | ১ম | তাজরিন এলিসা | ৫ম | ১ম | তাজরিন এলিসা |
| ৫ম | ২য় | জান্নাতুল ফেরদৌস মৌ | ৫ম | ২য় | তাহমিনা তাবাস্সুম তমা |
| ৫ম | ৩য় | তাহমিনা তাবাস্সুম তমা | ৫ম | ৩য় | মোছা: নুরইয়া আক্তার জহি |
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও নির্ধারিত বিষয়ে বক্তব্য প্রতিযোগিতায় যারা পুরস্কার পেয়েছেন তাদের কিছু স্থিরচিত্র



সমাপনী পর্ব এর কিছু স্থিরচিত্র




সমাপনী বক্তব্য-উম্মে কুলসুম অধ্যক্ষ
আমাদের অনুষ্ঠানটিকে সফল করার জন্য সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আরো আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন আমার শ্রদ্ধেয় পরিচালক বৃন্দকে, ওনাদের মূল্যবান সময় দিয়ে আমাদের অনুষ্ঠানটিকে প্রানবন্ত করেছেন। আমরা আশা করবো পরিচালক বৃন্দের অনুপ্রেরণামূলক দিক নির্দেশনা আমাদেরকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

আর শিক্ষার্থী বন্ধুরা আজকে আমরা এতক্ষণ যা আলোচনা করলাম এগুলো মনের মধ্যে ধারণ করবে, কারণ তোমরাই আগামী দিনের ভবিষ্যত। এগুলো তোমাদেরকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। আবারো সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আজকের মতো এখানেই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করছি। আস্সালামু আলাইকুম।
